ভারতে পাম অয়েল আমদানি ডিসেম্বরে আট মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। শীতকালীন মৌসুমি চাহিদা নিম্নমুখী থাকায় দেশটির রিফাইনাররা সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেলের মতো ভোজ্যতেলের দিকে ঝুঁকেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষ একটি বাণিজ্য সংস্থা। খবর রয়টার্স।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক দেশ ভারতের পাম অয়েল আমদানি কমে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় মজুদ বাড়তে পারে। এতে ফিউচার মার্কেটে পণ্যটির দাম কমে আসতে পারে।
মুম্বাইভিত্তিক সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ) জানায়, ডিসেম্বরে ভারতের পাম অয়েল আমদানি আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমে ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৪ টনে নেমে এসেছে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।
এসইএর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষ হওয়া বিপণন বর্ষে ভারত প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬ লাখ ৩২ হাজার টন পাম অয়েল আমদানি করেছে।
অন্যদিকে ডিসেম্বরে ভারতের সয়াবিন তেল আমদানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৫ হাজার ১১২ টনে পৌঁছেছে, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময় সূর্যমুখী তেল আমদানি প্রায় ১৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৯ টনে দাঁড়িয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে ভারতের মোট ভোজ্যতেল আমদানি ১৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার টনে পৌঁছেছে।
ভারত প্রধানত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানি করে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল কেনে দেশটি।
একটি বৈশ্বিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের মুম্বাইভিত্তিক একজন ডিলার বলেন, শীতকালীন মৌসুমি মন্দার কারণে পাম অয়েলের চাহিদা কমে গেছে।
তিনি জানান, শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে পাম অয়েল জমাট বাঁধতে শুরু করে, বিশেষ করে ভারতের উত্তরাঞ্চলে এর ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে এ সময়ে সাধারণত ভারতে পাম অয়েল আমদানি কমে যায়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় পাম অয়েলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেলের দামের ব্যবধান বেড়েছে। ফলে জানুয়ারিতে ভারতের পাম অয়েল আমদানি সাত লাখ টনের বেশি হতে পারে।